বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ঢাকা বিভাগ · বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ

প্রাচীন সোনারগাঁও, জামদানির তাঁত আর শীতলক্ষ্যার নিটওয়্যার বন্দর

ঢাকার পাশে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার তীরের নারায়ণগঞ্জে আছে মধ্যযুগের সোনারগাঁও ও পানাম নগর, রূপগঞ্জের জামদানি তাঁতি আর দেশের অন্যতম বড় নিটওয়্যার কেন্দ্র।

আয়তন
৬৮৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
৩,৯০৯,১৩৮
উপজেলা
৫
ইউনিয়ন
৩৯
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৯.২%
পানাম নগরের প্রধান সড়কের দুই পাশে খিলানযুক্ত জানালার পুরোনো ইটের বণিকবাড়ি
পানাম নগর, সোনারগাঁও ছবি: Salim Khandoker · CC BY-SA 4.0

নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে

আয়তনে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা, কিন্তু সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণগুলোর একটি; ২০২২ সালের জনশুমারিতে এখানে প্রায় ৩৯ লাখ মানুষ গণনা করা হয়েছে। জেলাটি ঢাকার ঠিক দক্ষিণ-পূর্বে, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী ঘেঁষে, আর পূর্ব সীমায় মেঘনা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাইরে ৫টি উপজেলা: নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার।

শীতলক্ষ্যার এক পাড়ে নারায়ণগঞ্জ শহর, অন্য পাড়ে বন্দর; শহরটি বহুকাল ধরে নদীবন্দর, আর এর ঘাটগুলো এখনো লঞ্চ, মালবাহী নৌকা আর বালুর বার্জে মুখর। ভেতরের দিকে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে তাঁতিপাড়া, নার্সারি আর নতুন আবাসন প্রকল্প পাশাপাশি, আর পূর্বের সোনারগাঁও খাল ও পুকুরের মাঝে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন কিছু স্থাপনা ধরে রেখেছে।

বৃহত্তর ঢাকা মহানগর অঞ্চলের অংশ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও কমিউটার ট্রেনে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত, আর অনেকেই এক জেলায় কাজ করেন, অন্য জেলায় থাকেন।

ইতিহাস

জেলার পূর্বের সোনারগাঁও চৌদ্দ শতকে স্বাধীন সুলতানদের আমলে বাংলার রাজধানী ছিল, পরে মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁর কেন্দ্র। ইবনে বতুতার মতো পর্যটকেরা এর বাণিজ্যের বর্ণনা দিয়েছেন, আর এখানকার তাঁতিদের সূক্ষ্ম মসলিন অঞ্চলটিকে বিখ্যাত করেছিল। ১৫১৯ সালের গোয়ালদি মসজিদ আর সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি সেই যুগের নিদর্শন; পরে মোগলরা জলদস্যুদের ঠেকাতে হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দায় নদীদুর্গ গড়ে তোলে।

শহরের নাম এসেছে বিকন লাল পান্ডে থেকে, যিনি লক্ষ্মীনারায়ণ ঠাকুর নামে পরিচিত ছিলেন; ১৭৬০-এর দশকে তিনি শীতলক্ষ্যার তীরের বাজারগুলো নারায়ণের পূজার জন্য দেবোত্তর ঘোষণা করেন। উনিশ শতকে ব্রিটিশ ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নারায়ণগঞ্জকে পাটবন্দরে পরিণত করে, আর ১৯৪৭ সালের পর আদমজীর মতো বিশাল পাটকলসহ এত পাটকল চালু হয় যে একে প্রাচ্যের ড্যান্ডি বলা হতো। নারায়ণগঞ্জ জেলা হয় ১৯৮৪ সালে।

টেরাকোটা প্যানেল আর তিনটি খিলান দরজাসহ গম্বুজওয়ালা ইটের গোয়ালদি মসজিদ
গোয়ালদি মসজিদ, সোনারগাঁও ছবি: Parvezahmed · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

অর্থনীতি শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর। নারায়ণগঞ্জ নিটওয়্যার ও হোসিয়ারির শীর্ষ কেন্দ্র; ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ আর বিসিক শিল্পনগরীর কারখানাগুলো রপ্তানিকারক ও দেশীয় বাজারে মাল সরবরাহ করে। টানবাজার সুতা ও কাপড়ের বড় পাইকারি বাজার, আর নিতাইগঞ্জে বিপুল পরিমাণে চাল, আটা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের কেনাবেচা হয়। রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও জামদানি বুননের কেন্দ্র, যে হস্তচালিত তাঁতশিল্পকে ইউনেস্কো অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে; আড়াইহাজারে আছে অনেক পাওয়ারলুম। শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার তীরে জাহাজ নির্মাণ, সিমেন্ট ও ডকইয়ার্ড শিল্প।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

প্রতি বসন্তে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে লাঙ্গলবন্দের অষ্টমী স্নানে লাখো হিন্দু পুণ্যার্থী পবিত্র স্নানের জন্য আসেন। সোনারগাঁওয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আছে জাদুঘর, আর প্রতি বছর সেখানে বসে লোকজ মেলা, যেখানে সারা দেশের কারুপণ্য, গান আর খাবার মেলে। গ্রামে গ্রামে জারি, পালাগান, মুর্শিদি আর মেয়েলি গীতের পুরোনো ঐতিহ্য চলছে।

শহরের নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্যও নারায়ণগঞ্জ পরিচিত, আর নদীঘাটের আশপাশের খাবারের দোকানগুলোও জনপ্রিয়।

নারায়ণগঞ্জ-এর দর্শনীয় স্থান

  1. পানাম নগর, সোনারগাঁও

    একটিমাত্র রাস্তার দুই পাশে উনিশ ও বিশ শতকের শুরুর দিকের পরিত্যক্ত দোতলা-তিনতলা বণিকবাড়ি, খিলান, ঢালাই লোহা আর রঙিন কাচসহ। বাংলাদেশের সবচেয়ে আবহময় ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর একটি।

  2. লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, সোনারগাঁও

    বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সংস্কার করা বড় সরদার বাড়িতে, লেক আর বাগানসহ। গ্যালারিতে নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প, কাঠ ও ধাতুর কাজ প্রদর্শিত হয়।

  3. গোয়ালদি মসজিদ

    সোনারগাঁওয়ে ১৫১৯ সালের এক গম্বুজের ইটের মসজিদ, সূক্ষ্ম টেরাকোটা আর খোদাই করা পাথরে সাজানো। পানাম নগর থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়।

  4. হাজীগঞ্জ দুর্গ

    শহরে শীতলক্ষ্যার তীরে মোগল নদীদুর্গ, ঢাকামুখী নৌপথকে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত। এর প্রাচীর আর কামান-মঞ্চ ভালোভাবে টিকে আছে।

  5. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি

    সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়ায় আনুমানিক ১৩৯০ থেকে ১৪১১ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করা সুলতানের কবর, সুলতানি আমলের টিকে থাকা অল্প কয়েকটি রাজকীয় সমাধির একটি।

নারায়ণগঞ্জ যে জন্য বিখ্যাত

নারায়ণগঞ্জ কীভাবে যাবেন

নারায়ণগঞ্জ শহর ঢাকার কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার। গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে যানজট বুঝে মোটামুটি পৌনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে, আর কমলাপুর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন সস্তা ও ঘন ঘন চলে। সোনারগাঁও যেতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগরাপাড়াগামী বাস ধরুন; ভিড়ের সময় বাদে ঢাকা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চও চলে।

হাট ও বাজার

টানবাজার
নারায়ণগঞ্জ শহরের জনাকীর্ণ পাইকারি বাজার, সুতা, কাপড়, হোসিয়ারি ও নিটওয়্যারের জন্য; অনেক ছোট পোশাক নির্মাতা এখান থেকেই কাঁচামাল কেনেন।
নিতাইগঞ্জ
শীতলক্ষ্যার পাশে চাল, আটা, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার।
রূপগঞ্জ জামদানি পল্লী
রূপগঞ্জের তারাব ও নোয়াপাড়ার আশপাশের তাঁতিপাড়া, যেখানে ক্রেতারা তাঁত ঘুরে দেখে সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে জামদানি শাড়ি কিনতে পারেন।

এক নজরে নারায়ণগঞ্জ

এক নজরে নারায়ণগঞ্জ

মিডমার্টে নারায়ণগঞ্জ-এর দোকান

নারায়ণগঞ্জ থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

নারায়ণগঞ্জ-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

নারায়ণগঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন

জামদানি শাড়ি, নিটওয়্যার ও হোসিয়ারি শিল্প, ঐতিহাসিক পাটবন্দর আর পানাম নগরসহ প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ের জন্য।

নারায়ণগঞ্জ-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

ঢাকা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।