বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ঢাকা বিভাগ · বাংলাদেশ

ঢাকা

বুড়িগঙ্গার তীরের রাজধানী: মোগল দুর্গ, মসলিনের স্মৃতি আর কখনো না থামা এক শহর

ঢাকা জেলায় দেশের রাজধানী আর পাঁচটি দ্রুত বেড়ে ওঠা উপজেলা। মোগল আমলের লালবাগ কেল্লা, গোলাপি আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকার খাবার আর দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারের জন্য এখানে আসুন।

আয়তন
১,৪৬৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১৪,৭৩৪,৭০১
উপজেলা
৫
ইউনিয়ন
৮৬
জেলা গঠন
১৭৭২
সাক্ষরতা
৮৪.৯%
পুরান ঢাকায় বিশাল সিঁড়িসহ গোলাপি আহসান মঞ্জিল প্রাসাদের ওপর থেকে তোলা ছবি
আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকা ছবি: Shafiul Islam Shaikot · CC BY 4.0

ঢাকা সম্পর্কে

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের ঠিক মাঝখানে। এর ভেতরে আছে দেশের রাজধানী, যা ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালনা করে, আর চারপাশে পাঁচটি উপজেলা: সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারেরও কম এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ গণনা করা হয়েছে, যা একে দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা বানিয়েছে। এখানকার প্রতি চারজনের প্রায় তিনজনই শহরে থাকেন।

এই জেলার চেহারা গড়েছে নদী। পুরান ঢাকার দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা, পশ্চিমে তুরাগ আর পূর্বে বালু নদী শহরকে ঘিরে রেখেছে, আর দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্রামাঞ্চলে ধলেশ্বরী, ইছামতী ও কালীগঙ্গা ছড়িয়ে আছে; দোহারের কাছে পদ্মা জেলার সীমা টেনেছে। বেলাই বিলসহ নবাবগঞ্জের নিচু জলাভূমি বর্ষায় ডুবে যায়, তাই শহর বেড়েছে উত্তরে, সাভার ও উত্তরার দিকে মধুপুর গড়ের উঁচু লাল মাটিতে।

বেড়াতে আসা মানুষের কাছে ঢাকা আসলে দুটি আলাদা জায়গা। পুরান ঢাকা সরু গলি, মোগল ও ঔপনিবেশিক স্থাপনা, রিকশা আর এমন সব বিশেষায়িত বাজারের জগৎ, যেখানে শত শত বছর ধরে একই পণ্যের কেনাবেচা চলছে। উত্তরের নতুন ঢাকা অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, পোশাক কারখানার সদর দপ্তর আর শপিং সেন্টারের শহর। শহরের সীমানা পেরোলেই সাভার ও ধামরাইয়ে এখনো ইটভাটা, ধানখেত, মন্দির আর কারিগরদের গ্রাম চোখে পড়ে।

ইতিহাস

এখানকার জনবসতি রাজধানীর চেয়ে অনেক পুরোনো। আদি মধ্যযুগে সাভার ছিল একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র, আর ঢাকা নামটি সেন আমলের বলে কথিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকে মনে করেন। ১৬০৮ সালে মোগলরা বাংলার রাজধানী এখানে আনলে শহরটি সত্যিকারের রাজধানী হয়ে ওঠে; সুবাদার ইসলাম খান এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। শায়েস্তা খানের মতো শাসকদের আমলে ঢাকার মসলিন এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে খ্যাতি পায়, আর লালবাগ কেল্লা, বড় কাটরা ও অনেক মসজিদ এই সময়েরই নির্মাণ।

ব্রিটিশ প্রশাসনিক ঢাকা জেলা গঠিত হয় ১৭৭২ সালে। মুর্শিদাবাদ ও পরে কলকাতার উত্থানে শহরটির গুরুত্ব কমে যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর অল্প সময়ের জন্য পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়, আর ১৯৪৭ সালে হয় পূর্ববঙ্গের রাজধানী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, সবই ঘটেছে এখানে। তখন থেকেই ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

পুরান ঢাকার ঘন ভবনে ঘেরা লালবাগ কেল্লার বাগানের ওপর থেকে তোলা দৃশ্য
ওপর থেকে লালবাগ কেল্লা ছবি: Pinu Rahman · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

ঢাকা দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির কেন্দ্র। ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রধান কার্যালয় মতিঝিল, গুলশান, বনানী ও তেজগাঁওয়ে, আর সাভারের ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের পোশাক কারখানাগুলোতে লাখো শ্রমিক কাজ করেন, যাঁদের বেশির ভাগই নারী। পুরান ঢাকা এখনো সারা দেশের পাইকারি বাজারের প্রাণ: কাপড়ের জন্য ইসলামপুর, প্রসাধনী, খেলনা ও প্যাকেজিংয়ের জন্য চকবাজার, মুদিপণ্যের জন্য বাবুবাজার আর মসলার জন্য মৌলভীবাজার। শহরের বাইরে সাভার ও ধামরাইয়ে দুগ্ধখামার, ইটভাটা আর সবজি চাষ হয়, কেরানীগঞ্জে দেশীয় বাজারের জন্য তৈরি পোশাকের বিশাল কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, আর ধামরাইয়ের কারিগরেরা এখনো হারানো মোম পদ্ধতিতে পিতল ও কাঁসার জিনিস ঢালাই করেন।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

পুরান ঢাকার আছে নিজস্ব ভাষা, আদি ঢাকাইয়াদের ঢাকাইয়া বুলি, আর নিজস্ব খাবার: কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, মাটির তন্দুরে সেঁকা বাকরখানি এবং রমজানে চকবাজারের বিখ্যাত ইফতার বাজার। পৌষের শেষ দিনে সাকরাইন উৎসবে প্রতি জানুয়ারিতে পুরান ঢাকার ছাদ ঘুড়িতে ভরে যায়, আর পহেলা বৈশাখ শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে।

ধর্মীয় জীবনও বৈচিত্র্যময়। ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, আরমানিটোলা ও তেজগাঁওয়ে টিকে আছে আর্মেনীয় ও ক্যাথলিক গির্জা, আর ধামরাইয়ের রথযাত্রা, তার বিশাল কাঠের রথসহ, দেশের অন্যতম প্রাচীন রথ উৎসব। শাঁখারীবাজারে আজও শঙ্খ কেটে শাঁখা বানানো ও বিক্রি হয়।

ঢাকা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. লালবাগ কেল্লা

    ১৬৭৮ সালে শাহজাদা মুহাম্মদ আজম এই দুর্গের কাজ শুরু করেন, পরে শায়েস্তা খান তা এগিয়ে নেন, তবে শেষ হয়নি। পুরান ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রাচীরঘেরা বাগানের ভেতরে আছে পরী বিবির সমাধি, তিন গম্বুজের মসজিদ এবং সুবাদারের দরবার হল ও হাম্মামখানা। ভিড় এড়াতে সকালে যাওয়াই ভালো।

  2. আহসান মঞ্জিল

    বুড়িগঙ্গার তীরে কুমারটুলীতে ঢাকার নবাবদের গোলাপি প্রাসাদ, ১৮৭০-এর দশকে নির্মাণ শেষ হয়, এখন জাদুঘর। সংস্কার করা কক্ষগুলোতে নবাব পরিবারের আসবাব, প্রতিকৃতি, জলসাঘর ও দরবার হল দেখা যায়।

  3. তারা মসজিদ

    আরমানিটোলার ছোট্ট এই মসজিদের দেয়াল আর গম্বুজ চীনা ও জাপানি চীনামাটির টুকরো দিয়ে মোজাইক করা, যার প্রধান নকশা নীল তারা। আহসান মঞ্জিল থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়।

  4. জাতীয় সংসদ ভবন

    শেরেবাংলা নগরে স্থপতি লুই কানের নকশা করা কংক্রিট ও মার্বেলের বিশাল জাতীয় সংসদ ভবন, চারপাশে কৃত্রিম লেক আর সবুজ চত্বর। বাইরে থেকে দেখলেও আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন বলে মনে হয়।

  5. জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার

    শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারে সাত স্তম্ভের জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত। ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে এর সাজানো চত্বর ও গণকবরে মানুষের ঢল নামে।

  6. ঢাকেশ্বরী মন্দির

    বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত, শহরের নামের সঙ্গেও যুক্ত। লালবাগের কাছের এই মন্দির চত্বর দুর্গাপূজার সময় রাজধানীর উৎসবের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

ঢাকা যে জন্য বিখ্যাত

ঢাকা কীভাবে যাবেন

বাংলাদেশের বেশির ভাগ যাত্রা শুরু বা শেষ হয় ঢাকায়। কুর্মিটোলার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ফ্লাইট ওঠানামা করে। ট্রেন থামে কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে, আর পদ্মা সেতুর রেলপথ এখন শহরকে দক্ষিণ-পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দূরপাল্লার বাস উত্তর ও পশ্চিমের জন্য গাবতলী, দক্ষিণ ও পূর্বের জন্য সায়েদাবাদ আর উত্তর-পূর্বের জন্য মহাখালী টার্মিনাল ব্যবহার করে, আর বরিশাল ও উপকূলের লঞ্চ ছাড়ে বুড়িগঙ্গার সদরঘাট থেকে। শহরের ভেতরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ মেট্রোরেলই সবচেয়ে দ্রুত; সড়কপথে চললে যানজটের জন্য হাতে বাড়তি সময় রাখুন।

হাট ও বাজার

ইসলামপুর ও চকবাজার
পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারের কেন্দ্র: ইসলামপুরে থান ধরে শাড়ি, থ্রি-পিস ও শার্টের কাপড়, আর চকবাজারে প্রসাধনী, খেলনা, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং সামগ্রী। দেশের নানা প্রান্তের বিক্রেতারা এখান থেকেই মাল তোলেন।
কারওয়ান বাজার
রাজধানীর প্রধান কাঁচাবাজার ও পাইকারি আড়ত। ভোরের আগে সবচেয়ে ব্যস্ত, যখন দেশের সব প্রান্ত থেকে ট্রাকে সবজি, ফল, মাছ ও ডিম নামে।
ঢাকা নিউমার্কেট ও গাউছিয়া
নীলক্ষেতের কাছে ১৯৫০-এর দশকের এই বাজার ও আশপাশের মার্কেট পোশাক, কাপড়, জুতা আর রান্নাঘরের জিনিসের জন্য বিখ্যাত; রাস্তার ওপারেই নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান। দরদাম করাই এখানকার নিয়ম।
মিরপুর বেনারসি পল্লী
মিরপুরের এই এলাকায় তাঁতি আর দোকানিরা সরাসরি তাঁত ও শোরুম থেকে বেনারসি, কাতান ও জামদানি শাড়ি বিক্রি করেন। ঈদ আর বিয়ের মৌসুমে ভিড় সবচেয়ে বেশি।

এক নজরে ঢাকা

এক নজরে ঢাকা

মিডমার্টে ঢাকা-এর দোকান

UNO lifestyle নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই কোনো পণ্য নেই
All mamun stor নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই কোনো পণ্য নেই
Elora spark bd নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই 2 টি পণ্য
Shobar Dokan নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই 4 টি পণ্য
DS4 BD. COM নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই কোনো পণ্য নেই
Era Erham Familly Fashion নতুন ঢাকা
এখনো কোনো রিভিউ নেই 1 টি পণ্য

ঢাকা-এর সব দোকান দেখুন

ঢাকা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

ঢাকা নিয়ে প্রশ্ন

লালবাগ কেল্লার মতো মোগল স্থাপনা, আহসান মঞ্জিল, ঐতিহাসিক মসলিন ও আজকের বেনারসি-জামদানি শাড়ি, কাচ্চি বিরিয়ানি ও বাকরখানির মতো পুরান ঢাকার খাবার এবং বিশাল পাইকারি বাজারের জন্য।

ঢাকা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

ঢাকা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

ঢাকা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।