বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ঢাকা বিভাগ · বাংলাদেশ

মাদারীপুর

আড়িয়াল খাঁ তীরের শহর: খেজুরের গুড়, শাহ মাদার আর শকুনি লেক

পদ্মার দক্ষিণে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরের মাদারীপুর শীতের খেজুরের গুড়, ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহ, শাহ মাদারের দরগাহ আর চরমুগরিয়ার পুরোনো পাটবন্দরের জন্য বিখ্যাত।

আয়তন
১,১২৬ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,২৯৩,০২৭
উপজেলা
৫
ইউনিয়ন
৫৯
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৪.৯%
নীল আকাশের নিচে মাদারীপুর শহরের শকুনি লেক, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আর শহরের ভবন
শকুনি লেক, মাদারীপুর ছবি: LM Tanzil · CC BY-SA 4.0

মাদারীপুর সম্পর্কে

মাদারীপুর পদ্মার দক্ষিণ তীরের ছোট্ট জেলা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের মাঝখানে, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ ও বরিশাল। জেলায় ৫টি উপজেলা: মাদারীপুর সদর, শিবচর, কালকিনি, রাজৈর আর নতুন গঠিত ডাসার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ১২ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ গণনা করা হয়েছে, যাঁদের চার ভাগের তিন ভাগ গ্রামে থাকেন।

নদীই এই জেলার পরিচয়। পদ্মার শক্তিশালী শাখা আড়িয়াল খাঁ মাদারীপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এবং বহুবার এর পাড় ভেঙেছে; কুমার, পালরদীসহ অসংখ্য নদী ও খাল নিচু মাঠ আর বিল চিরে গেছে। উত্তরের শিবচর সরাসরি পদ্মার মুখোমুখি, আর এখন পদ্মা সেতু থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে যাওয়ার প্রধান পথের ওপর।

মাদারীপুর শহর গড়ে উঠেছে শকুনি লেককে ঘিরে; শহরের কেন্দ্রের বড় আয়তাকার এই জলাশয়ই শহরবাসীর পার্ক ও বেড়ানোর জায়গা। দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজৈরে হিন্দু জনগোষ্ঠী বড় এবং মন্দিরও অনেক, আর কালকিনির সীমানা মিশেছে বরিশালের জলাভূমির সঙ্গে।

ইতিহাস

জেলার নাম এসেছে সুফি সাধক শাহ বদিউদ্দিন মাদারের নাম থেকে, যাঁর দরগাহ এই এলাকায়। ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর বাকেরগঞ্জের একটি মহকুমা হয়, ১৮৭৩ সালে ফরিদপুর জেলায় যুক্ত হয়, আর ১৯৮৪ সালে আলাদা জেলা হয়। উনিশ শতকের শুরুতে বর্তমান শিবচরের শামাইলে জন্ম নেওয়া হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন, যা ধর্মীয় সংস্কার থেকে নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকের প্রতিরোধে রূপ নেয়; তাঁর ছেলে দুদু মিয়া আন্দোলন এগিয়ে নেন। শরীয়তুল্লাহ সমাহিত আছেন বাহাদুরপুরে।

চরমুগরিয়া নদীবন্দর একসময় পূর্ববঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত পাটের বাজার ছিল, যার তীরে ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর এজেন্সি ছিল। বিশ শতকের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও মাদারীপুরের ভূমিকা ছিল, আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই অঞ্চলের বহু মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।

অর্থনীতি ও জীবিকা

কৃষিই প্রধান: নদীর পলিতে গড়া জমিতে ধান, পাট, আখ, তেলবীজ, ডাল ও সবজি ফলে, আর শীতে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম মাদারীপুরকে দেশের খেজুরের গুড়ের সবচেয়ে পরিচিত উৎসগুলোর একটি বানিয়েছে। আড়িয়াল খাঁ, পদ্মা ও বিলে মাছ ধরা গুরুত্বপূর্ণ, আর শিবচরের পদ্মাপাড়ের ঘাট বহু বছর ইলিশের জন্য বিখ্যাত ছিল। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ আর বিশেষ করে ইতালিতে কাজ করা প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় অনেক পরিবার চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র মাদারীপুর শহর, চরমুগরিয়া ও টেকেরহাট।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

লোকঐতিহ্যের মধ্যে আছে গাজীর গান, কীর্তন ও ধুয়া গান, আর রাজৈরের মতুয়া সম্প্রদায় উৎসবে তাঁদের ভক্তিগীতি গান। শাহ মাদারের দরগাহের ওরস আর রাজৈরের দুর্গাপূজায় বিপুল ভিড় হয়, আড়িয়াল খাঁ নদীতে নৌকাবাইচও জনপ্রিয়।

শীতে ঘরে ঘরে আর মিষ্টির দোকানে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় ঝোলা গুড়, পাটালি আর পিঠা; মাদারীপুরের রসগোল্লা ও গুড়ের মিষ্টি জনপ্রিয় উপহার। নদীঘাটে মচমচে করে ভাজা পদ্মার ইলিশ ভ্রমণকারীদের প্রিয়।

মাদারীপুর-এর দর্শনীয় স্থান

  1. শকুনি লেক

    মাদারীপুর শহরের কেন্দ্রে বড় লেক, চারপাশে হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। শহর ঘোরা শুরু করার সেরা জায়গা, বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময়।

  2. আলগী কাজীবাড়ি মসজিদ

    মাদারীপুর সদর উপজেলার আলগীতে মোগল আমলের মসজিদ, গম্বুজ আর পুরোনো ইটের দেয়ালসহ। জেলার টিকে থাকা প্রাচীনতম স্থাপনাগুলোর একটি।

  3. আউলিয়াপুর নীলকুঠি

    আউলিয়াপুরে ব্রিটিশ আমলের নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ, যে নীল ব্যবসার বিরুদ্ধে ফরায়েজি আন্দোলন রুখে দাঁড়িয়েছিল তার স্মারক।

  4. চরমুগরিয়া নদীবন্দর

    মাদারীপুর শহরের পূর্বে আড়িয়াল খাঁর তীরের পুরোনো বাণিজ্যবন্দর, একসময় পাট ব্যবসার কেন্দ্র। নদীপাড়ের বাজারে আজও নৌকা আর কেনাবেচার জমজমাট দৃশ্য দেখা যায়।

  5. সেনাপতির দিঘি

    কালকিনি উপজেলার বড় পুরোনো দিঘি, স্থানীয় জনশ্রুতিতে মধ্যযুগের এক সেনাপতির সঙ্গে যুক্ত; গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ানোর সুন্দর জায়গা।

মাদারীপুর যে জন্য বিখ্যাত

মাদারীপুর কীভাবে যাবেন

পদ্মা সেতু চালুর পর মাদারীপুর ঢাকার খুব কাছে চলে এসেছে: যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে বাস সেতু পার হয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে শিবচর হয়ে মোটামুটি আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় মাদারীপুর শহরে পৌঁছায়। পদ্মা সেতুর রেলপথে ট্রেন শিবচর ও ভাঙ্গায় থামে, সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে শহরে যাওয়া যায়। জেলার ভেতরের যাতায়াতে নদী আর লঞ্চ এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

হাট ও বাজার

চরমুগরিয়া বাজার
আড়িয়াল খাঁর তীরের ঐতিহাসিক বাজার, একসময় পাটের জন্য বিখ্যাত, এখনো ধান, মাছ আর স্থানীয় কৃষিপণ্যের ব্যস্ত কেন্দ্র।
টেকেরহাট
রাজৈর উপজেলার বড় বাজার-শহর, জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের ব্যবসার কেন্দ্র।
মাদারীপুর পুরান বাজার
মাদারীপুর শহরের পুরোনো কেন্দ্রীয় বাজার, শীতে যেখানে আশপাশের গ্রামের তাজা খেজুরের গুড় ও পাটালি মেলে।

এক নজরে মাদারীপুর

এক নজরে মাদারীপুর

মিডমার্টে মাদারীপুর-এর দোকান

মাদারীপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

মাদারীপুর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মাদারীপুর নিয়ে প্রশ্ন

শীতের খেজুরের গুড়, শকুনি লেক, শাহ মাদারের দরগাহ, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও ফরায়েজি আন্দোলন আর চরমুগরিয়ার পুরোনো পাটবন্দরের জন্য।

মাদারীপুর-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

মাদারীপুর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

ঢাকা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।