বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ঢাকা বিভাগ · বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জ

যেখানে যমুনা মেশে পদ্মায়: জমিদারবাড়ি আর হাজারী গুড়

ঢাকার পশ্চিমে যমুনা-পদ্মার মিলনস্থলে মানিকগঞ্জ। বালিয়াটি ও তেওতা জমিদারবাড়ি দেখুন, পাটুরিয়া-আরিচা ঘাটে নদী পার হোন আর ঝিটকার বিখ্যাত হাজারী গুড়ের স্বাদ নিন।

আয়তন
১,৩৮৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,৫৫৮,০২৫
উপজেলা
৭
ইউনিয়ন
৬৫
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭১.২%
সবুজ গাছপালায় ঘেরা শাপলা পুকুরের পাশে বালিয়াটি প্রাসাদের ওপর থেকে তোলা দৃশ্য
বালিয়াটি প্রাসাদ, সাটুরিয়া ছবি: Azim Khan Ronnie · CC BY-SA 4.0

মানিকগঞ্জ সম্পর্কে

মানিকগঞ্জ ঢাকা জেলার পশ্চিমের প্রতিবেশী, সীমায় যমুনা ও পদ্মা, যারা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আরিচা ও পাটুরিয়ার কাছে এসে মিলেছে। জেলার ৭টি উপজেলা: মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, সিংগাইর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর। ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ১৫ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ গণনা করা হয়েছে, আর জেলাটি এখনো মূলত গ্রামীণ।

কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী জেলার ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে, আর সীমানার বড় নদীগুলো প্রতি বছর নতুন চর আর বালুচর তৈরি করে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক জেলার মাঝখান দিয়ে গেছে; পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিতে পদ্মা পার হয়ে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ সড়কপথে এই জেলা হয়েই রাজধানীতে পৌঁছায়।

মহাসড়ক থেকে একটু সরলেই মানিকগঞ্জ শান্ত কৃষিপ্রধান এলাকা: শীতে সরিষার হলুদ মাঠ, গ্রীষ্মে পাট আর ধান, আর পুরোনো গ্রামগুলোতে জরাজীর্ণ জমিদারবাড়ি।

ইতিহাস

১৮৪৫ সালে মানিকগঞ্জ ফরিদপুরের অধীনে মহকুমা হয়, ১৮৫৩ সালে তা ঢাকা জেলায় যুক্ত হয়। নামের উৎস হিসেবে মানিক শাহ নামের এক সুফি সাধক বা মানিক নামের স্থানীয় শাসকদের কথা বলা হয়, তবে নিশ্চিত নয়। উনিশ শতকে ধনী জমিদার পরিবারগুলো এখানে বিশাল প্রাসাদ গড়ে তোলে: সাটুরিয়ার বালিয়াটি জমিদারি, যার প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন লবণ ব্যবসায়ী, আর শিবালয়ের তেওতা জমিদারি, কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর পৈতৃক নিবাস। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের পৈতৃক বাড়িও মানিকগঞ্জের মত্ত গ্রামে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সিংগাইরের গোলাইডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধারা একটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধে জয়ী হন। ১৯৮৯ সালের ২৬ এপ্রিল দৌলতপুর-সাটুরিয়া টর্নেডো জেলায় আঘাত হানে, প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান; এটিকে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী টর্নেডো ধরা হয়। মানিকগঞ্জ জেলা হয় ১৯৮৪ সালে।

গাছপালায় ঢাকা তেওতা জমিদারবাড়ির ভাঙা খিলানযুক্ত সম্মুখভাগ
তেওতা জমিদারবাড়ি, শিবালয় ছবি: Asif Zaman · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

কৃষিই প্রধান: ধান, পাট, গম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ও সবজি, সঙ্গে অসংখ্য ছোট দুগ্ধখামারের দুধ। হরিরামপুর আর পদ্মাপাড়ের চরগুলো খেজুরগাছের জন্য পরিচিত, আর ঝিটকা হাজারী গুড়ের জন্মস্থান; ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই উঁচুমানের খেজুরের গুড় ঢাকায় চড়া দামে বিক্রি হয়। ছোট শিল্পের মধ্যে আছে চালকল, ইটভাটা, মহাসড়কের পাশে বাড়তে থাকা পোশাক ও খাদ্য কারখানা, আর আরিচা ও পাটুরিয়া নদীবন্দর, যেখানে মাঝি, কুলি আর ব্যবসায়ীদের কাজ চলে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

মানিকগঞ্জের লোকঐতিহ্য সমৃদ্ধ: বাউল ও বিচারগান, জারি, সারি, কবিগান, আর বেরা ভাসান উৎসবে বেহুলা-লখিন্দরের গান। জেলাটি মেলার জন্যও পরিচিত; বছরে পঞ্চাশটির বেশি মেলা বসে, যার মধ্যে পৌষমেলা, বারুণী মেলা আর মাজার ও আশ্রমকেন্দ্রিক সমাবেশ আছে।

শীতের খাবার মানেই হাজারী গুড় আর পিঠা; বর্ষায় পদ্মা-যমুনার ইলিশ ও বোয়াল, যা প্রায়ই আরিচা ঘাট থেকে তাজা কেনা হয়।

মানিকগঞ্জ-এর দর্শনীয় স্থান

  1. বালিয়াটি প্রাসাদ

    সাটুরিয়ায় বালিয়াটি জমিদার পরিবারের তৈরি উনিশ শতকের কয়েকটি বিশাল প্রাসাদের সমষ্টি, স্তম্ভশোভিত সম্মুখভাগ, আঙিনা আর বড় পুকুরসহ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি দেখাশোনা করে, আর এটিই জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী স্থান।

  2. তেওতা জমিদারবাড়ি

    শিবালয়ে ভেঙে পড়া এক জমিদারি, সঙ্গে কারুকাজ করা নবরত্ন মন্দির আর লম্বা খিলানযুক্ত ভবন। নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা দেবী এখানে বড় হয়েছেন, আর কবির আসা-যাওয়ার স্মৃতিও এই বাড়ির সঙ্গে জড়িত।

  3. আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট

    যমুনা ও পদ্মার বিখ্যাত ফেরিঘাট, যেখানে দুই নদী মিলেছে। সূর্যাস্তের সময় এখানে ফেরি, লঞ্চ আর মাছ ধরার নৌকা দেখা নদীর দেশের এক চিরচেনা অভিজ্ঞতা।

  4. হরিরামপুরের পদ্মার চর

    হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মার পাড়ে বিস্তীর্ণ বালুচর আর মাঠ, বিশেষ করে শীতে নদীর ধারে দিন কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা।

মানিকগঞ্জ যে জন্য বিখ্যাত

মানিকগঞ্জ কীভাবে যাবেন

মানিকগঞ্জ শহর ঢাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর। গাবতলী থেকে বাসে সাভার ও হেমায়েতপুরের যানজট বুঝে মোটামুটি দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় শহরে পৌঁছানো যায়; বাস আরও এগিয়ে পাটুরিয়া ও আরিচা পর্যন্ত যায়। জেলায় রেলপথ নেই, তাই সড়কপথই একমাত্র বাস্তব উপায়।

হাট ও বাজার

ঝিটকা বাজার
হরিরামপুর উপজেলার বাজার, শীতের গুড়ের হাটের জন্য পরিচিত; আশপাশের গ্রামের হাজারী ও অন্যান্য খেজুরের গুড় এখানে বিক্রি হয়।
ঘিওর বাজার
ঘিওর উপজেলার বহু পুরোনো সাপ্তাহিক হাট, জেলার সবচেয়ে বড় হাটগুলোর একটি, যেখানে গবাদিপশু, শস্য আর গৃহস্থালি জিনিসের কেনাবেচা হয়।
মানিকগঞ্জ শহরের বাজার
জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাজার, মাছ, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্য আর স্থানীয় মিষ্টি মেলে।

এক নজরে মানিকগঞ্জ

এক নজরে মানিকগঞ্জ

মিডমার্টে মানিকগঞ্জ-এর দোকান

মানিকগঞ্জ থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

মানিকগঞ্জ-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মানিকগঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন

ঝিটকার হাজারী গুড়, বালিয়াটি ও তেওতা জমিদারবাড়ি, আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট আর পদ্মা-যমুনার মিলনস্থলের জন্য।

মানিকগঞ্জ-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

মানিকগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

ঢাকা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।