গল্পটা
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, গোপীনাথপুর আর বাল্লার আশপাশের গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে প্রায় দুই শ বছর ধরে বিশেষ এক খেজুরের গুড় বানিয়ে আসছে। নামটি সাধারণত হাজারী নামের এক গাছির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যিনি প্রথম এই গুড় বানান; তবে তাঁর পুরো নাম নিয়ে নানা মত আছে। লোককথা বলে, এক ব্রিটিশ রানি এ গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন, আর তখন থেকেই প্রতিটি গুড়ের ওপর হাজারী লেখা পিতলের সিল বসানো হয়। ঝিটকায় গল্পটি গর্বের সঙ্গে বলা হয়, তবে এটি লোককথা, লিখিত ইতিহাস নয়।
হাজারী গুড়ের বিশেষত্ব তৈরির পদ্ধতিতে। কারিগরেরা গাছ কাটার পর শুধু প্রথম দিকের টাটকা রসই নেন; টানা রস না নিয়ে কয়েক দিন রস সংগ্রহের পর গাছকে বিশ্রাম দিয়ে আবার কাটেন। সেদিন সকালেই রস জ্বাল দেওয়া হয় কয়েকটি তাফালওয়ালা মাটির বাইন চুলায়, ঘন হতে থাকলে এক তাফাল থেকে আরেকটিতে সরানো হয়, তারপর ঘুঁটে ঘুঁটে হালকা রঙের দানাদার করে ছোট ছাঁচে ঢালা হয়, ওপরে বসে হাজারী সিল। এক কেজি গুড় বানাতে মোটামুটি দশ থেকে বারো লিটার রস লাগে, তাই উৎপাদন খুবই কম: পত্রিকার খবরে বলা হয়, মাত্র ২০ থেকে ২৫টি পরিবার এখনো কাজটি ধরে রেখেছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির কনকনে শীতে দিনে কয়েক কেজি করে বানায়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে, আর ২০২৬ সালের ১৫ জুন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের সনদ দেয়; এটি বাংলাদেশের ৬৪তম নিবন্ধিত জিআই পণ্য। এই স্বীকৃতি নামটিকে সুরক্ষা দেয়, আলাদা কোনো কারিগর বা বিক্রেতাকে প্রত্যয়ন করে না।
আসল মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় চিনবেন কীভাবে
ঝিটকার মানুষ যে পরীক্ষার কথা বলেন, তা সহজ: এক টুকরো দুই আঙুলে চেপে দেখুন। আসল হাজারী গুড় শুকনো আর মিহি দানার, চাপ দিলে নরম গুঁড়ায় ঝরে পড়ে, জিভে দিলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গলে যায়, রেখে যায় টাটকা খেজুর রসের ঘ্রাণ। রং সাধারণত সাধারণ পাটালির চেয়ে হালকা। তবে শুধু রং দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না: হাইড্রোজ বা ফিটকিরির মতো রাসায়নিক দিয়েও সাধারণ গুড় সাদা করা যায়, তাই ফ্যাকাশে অথচ পাথরের মতো শক্ত, চাপ দিলে গুঁড়া হয় না এমন গুড় সতর্কসংকেত, মানের লক্ষণ নয়। স্বাদে শুধু চিনির মিষ্টতা, হাতে তেলতেলে বা চটচটে, কিংবা সস্তায় প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে, এমন গুড় হাজারী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এ গুড় তৈরিই হয় অল্প। ওপরে হাজারী সিল ঐতিহ্যের অংশ, কিন্তু সিল নকল করা সহজ, শুধু সিল দেখে কিছু প্রমাণ হয় না।
কেনার পরামর্শ
বিক্রেতার কাছে জানতে চান কোন পরিবার বা কোন গ্রামে গুড় তৈরি, কোন তারিখে, আর তিনি নিজে বানান নাকি কিনে এনে বিক্রি করেন। আসল কারিগর অল্প, আর মৌসুমের মধ্যেই সাধারণত সব বিক্রি হয়ে যায়, তাই বড় পরিমাণে বা মৌসুমের বাইরে হাজারী গুড় দেখলে প্রশ্ন করুন। কীভাবে প্যাক হবে জেনে নিন: হাজারী গুড় ভঙ্গুর আর বাতাস থেকে আর্দ্রতা টানে, তাই মুখবন্ধ, শক্ত বাক্সে পাঠানো উচিত। দাম বেশি হবেই; বেশি দাম খাঁটি হওয়ার প্রমাণ নয়, কিন্তু কম দাম নকল হওয়ার জোরালো ইঙ্গিত।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে নেয়, তাই এক বিক্রেতার হাজারী গুড় আর আরেকজনের পিঠার চালের গুঁড়া দুটি আলাদা ডেলিভারি। মিডমার্ট আপনার টাকা নেয় না, পার্সেলও পৌঁছে দেয় না; টাকা দেওয়া আর কুরিয়ার আপনি ও বিক্রেতা নিজেরা ঠিক করবেন। কোনো বিজ্ঞাপন প্রমাণ করে না যে গুড়টি ঝিটকার বা জিআইয়ের আওতাভুক্ত, তাই ওপরের প্রশ্নগুলো করুন আর প্রথমে অল্প পরিমাণে অর্ডার দিন।
কীভাবে রাখবেন
হাজারী গুড় বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে চটচটে হয়ে যায়, তাই বায়ুরোধী বয়ামে ঠান্ডা, শুকনো তাকে বা ফ্রিজে রাখুন, শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। মুখ আটকে রাখলে কয়েক সপ্তাহ ভালো থাকে; আরও বেশি দিন রাখতে চাইলে ছোট ছোট বায়ুরোধী ভাগে ডিপ ফ্রিজে রাখুন, খোলার আগে ঘরের তাপমাত্রায় আসতে দিন।
মিডমার্টে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় খুঁজুন
মিডমার্টে “হাজারী গুড়” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
মানিকগঞ্জ থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা