বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

খুলনা বিভাগ · বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গা

খেজুরের গুড়, পান আর দর্শনা চিনিকলের সীমান্ত জেলা

চুয়াডাঙ্গা খুলনা বিভাগের পশ্চিমের একটি ছোট সীমান্ত জেলা। দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং চিনিকল, সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট এবং ভুট্টা, পান ও সবজি চাষের জন্য জেলাটি পরিচিত।

আয়তন
১,১৭৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,২৩৪,০৫৪
উপজেলা
৪
ইউনিয়ন
৩৮
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭১.২%
দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোং কারখানার পুরোনো ইটের শেড ও উঁচু চিমনি
কেরু অ্যান্ড কোং, দর্শনা ছবি: Masum-al-hasan · CC BY-SA 4.0

চুয়াডাঙ্গা সম্পর্কে

বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্তে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান; এর সীমানা ঘেঁষে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। উত্তর ও পূর্বে কুষ্টিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে ঝিনাইদহ এবং উত্তর-পশ্চিমে মেহেরপুর। সমতল, উর্বর গাঙ্গেয় এই ভূমির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, চিত্রা, নবগঙ্গা ও কুমার নদী, শুকনো মৌসুমে যাদের অনেকগুলোই সরু ধারায় পরিণত হয়।

মাত্র চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলাটি দেশের ছোট জেলাগুলোর একটি — চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর। তবে কৃষিতে এর অবদান আয়তনের তুলনায় অনেক বড়। ভুট্টা, পান, সবজি আর খেজুরের গুড় উৎপাদনে চুয়াডাঙ্গা দেশের প্রথম সারিতে, এখানকার মাঠের ফসল সারা দেশের পাইকারি বাজারে যায়।

আবহাওয়ার জন্যও চুয়াডাঙ্গা আলোচিত। বসন্ত ও গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রায়ই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখানেই রেকর্ড হয়, আবার শীতও দক্ষিণের বদ্বীপ অঞ্চলের চেয়ে বেশ কড়া। খেজুর গাছ থেকে মিষ্টি রস পেতে ঠিক এই শীতটাই দরকার।

ইতিহাস

১৯৪৭ সালের আগে এলাকাটি অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার অংশ ছিল। দেশভাগের পর এটি নতুন কুষ্টিয়া জেলায় যুক্ত হয়, পরে চুয়াডাঙ্গা মহকুমা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। উনিশ শতকে এ অঞ্চল ছিল নীলচাষের এলাকা। ঘোলদাড়ি ও কার্পাসডাঙ্গার নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ সেই নীলকরদের অত্যাচার এবং ১৮৫৯–৬০ সালের নীল বিদ্রোহে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আধুনিক চুয়াডাঙ্গার বিকাশে রেলপথের ভূমিকা বড়। উনিশ শতকের ষাটের দশকে কলকাতা থেকে রেললাইন দর্শনায় পৌঁছায়, আর দর্শনা হয়ে ওঠে পূর্ববঙ্গ ও কলকাতার মধ্যে প্রধান রেল প্রবেশদ্বার। তিরিশের দশকে কেরু অ্যান্ড কোং সেখানে চিনিকল ও ডিস্টিলারি স্থাপন করে। ১৯৭১ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনীর প্রথম দিকের সদর দপ্তর ছিল চুয়াডাঙ্গায়। দামুড়হুদার নাটুদহে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ আটজন মুক্তিযোদ্ধাকে একসঙ্গে সমাহিত করা হয়, যা আজ আট কবর নামে পরিচিত।

দামুড়হুদার নাটুদহে সবুজ মাঠের মাঝ দিয়ে গাছঘেরা গ্রামীণ সড়ক
নাটুদহের গ্রামীণ পথ ছবি: MD SHAHIN BISWAS · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান ও পাটের পাশাপাশি এখানে ভুট্টা, পান, তামাক, কলা, সবজি, তুলা এবং দর্শনা চিনিকলের জন্য আখ চাষ হয়। শীতে হাজার হাজার খেজুর গাছ কেটে রস নামানো হয় এবং তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি হয়; চুয়াডাঙ্গা শহরের কাছের সরোজগঞ্জ হাট দেশের অন্যতম বৃহৎ খেজুর গুড়ের হাট। জীবননগরের দত্তনগর কৃষি খামার উন্নত বীজের একটি বড় সরকারি উৎস। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি করপোরেশনের অধীন কেরু অ্যান্ড কোং চিনির পাশাপাশি উপজাত থেকে দেশের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্পিরিট উৎপাদন করে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

চুয়াডাঙ্গা ঘোরার আসল সময় শীতকাল। গাছিরা সন্ধ্যায় খেজুর গাছ কেটে হাঁড়ি বাঁধেন, ভোরে রস নামান; রাস্তার পাশে মাটির হাঁড়িতে তাজা রস বিক্রি হয়, আর ঘরে ঘরে নতুন গুড়ে পিঠা বানানো হয়। প্রতিবেশী কুষ্টিয়ার বাউল ও লোকগানের ধারা এখানেও প্রবল, ফসল তোলার পর গ্রামের মেলায় যাত্রাপালা ও গানের আসর বসে।

স্থানীয় ভাষা নদীয়া ও কুষ্টিয়ার প্রমিত বাংলার খুব কাছাকাছি। খাবার সাধারণ কৃষকঘরের রান্না: মাথাভাঙ্গা ও বিলের মাছ, মৌসুমি সবজি আর খেজুর গুড়ের নানা মিষ্টান্ন।

চুয়াডাঙ্গা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. কেরু অ্যান্ড কোং, দর্শনা

    দামুড়হুদার দর্শনায় তিরিশের দশকে প্রতিষ্ঠিত চিনিকল ও ডিস্টিলারি, যা এখনো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি করপোরেশনের অধীনে চলছে। পুরোনো ইটের শেড, উঁচু চিমনি আর গাছগাছালিভরা চত্বরের জন্য দর্শনার্থীদের কাছে এটি জনপ্রিয়।

  2. দর্শনা রেলস্টেশন ও সীমান্ত

    কলকাতা থেকে আসা আদি রেলপথের ওপর দেশের প্রাচীনতম রেলস্টেশনগুলোর একটি। এটি ভারতের সঙ্গে রেল সীমান্ত পয়েন্ট; ঢাকা–কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস এই পথ দিয়েই যায়।

  3. নাটুদহ আট কবর

    দামুড়হুদার নাটুদহের জগন্নাথপুরে ১৯৭১ সালে শহীদ আটজন মুক্তিযোদ্ধার কবর পাশাপাশি রয়েছে। কবরগুলো ঘিরে স্মৃতি জাদুঘর ও বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।

  4. ঘোলদাড়ি জামে মসজিদ

    আলমডাঙ্গা উপজেলার এক গম্বুজের ছোট মসজিদ, স্থানীয় নথি অনুযায়ী ষোলো শতকের শেষ দিকে নির্মিত। এটি জেলার প্রাচীনতম স্থাপনাগুলোর একটি এবং এখনো নিয়মিত নামাজ হয়।

  5. ঠাকুরপুর মসজিদ

    সতেরো শতকের শেষে নির্মিত তিন গম্বুজের মসজিদ, শেষ মোগল আমলের গ্রামীণ স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।

চুয়াডাঙ্গা যে জন্য বিখ্যাত

চুয়াডাঙ্গা কীভাবে যাবেন

চুয়াডাঙ্গা খুলনা–ঈশ্বরদী ব্রডগেজ রেলপথের ওপর, তাই যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা–খুলনা চলাচলকারী চিত্রা এক্সপ্রেসের মতো আন্তঃনগর ট্রেন চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে থামে; যাত্রায় মোটামুটি ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগে। ঢাকার গাবতলী থেকে সরাসরি বাসে নদী পারাপারের ওপর নির্ভর করে প্রায় ছয় ঘণ্টা লাগে। ঢাকা থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট আসা যশোর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার পথ।

হাট ও বাজার

সরোজগঞ্জ হাট
চুয়াডাঙ্গা শহরের কাছের এই হাট দেশের অন্যতম বৃহৎ খেজুর গুড়ের হাট হিসেবে বিখ্যাত। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ব্যাপারীরা এখানে ঝোলা ও পাটালি গুড় কিনতে আসেন।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার
জেলা শহরের প্রধান বাজার; প্রতিদিন এখানে সবজি, পান, মাছ, মসলা ও গৃহস্থালি পণ্যের বেচাকেনা চলে।

এক নজরে চুয়াডাঙ্গা

এক নজরে চুয়াডাঙ্গা

মিডমার্টে চুয়াডাঙ্গা-এর দোকান

চুয়াডাঙ্গা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

চুয়াডাঙ্গা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

চুয়াডাঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন

সরোজগঞ্জ হাটের খেজুর গুড়, দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং চিনিকল, পান ও ভুট্টা চাষ এবং নাটুদহের আট কবর স্মৃতিসৌধের জন্য।

চুয়াডাঙ্গা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

চুয়াডাঙ্গা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

খুলনা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।